হাওজা নিউজ এজেন্সি: হযরত আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.)-এর শুভ জন্মোৎসবের এক সমাবেশে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আলী রেজা পানাহিয়ান পবিত্র মাজার শরিফে বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রথমে হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এবং ইমাম হুসাইনের (আ.) বিশ্বস্ত সঙ্গী ও পতাকাবাহক হযরত আব্বাস (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। তিনি বলেন, আজকের এই রাতে আমরা শুধু ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সহায়তা ও নেতৃত্বের কথাই আলোচনা করব।
পবিত্র হযরত মাসুমা (সা.)-এর মাজারে অনুষ্ঠিত এক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সভায় বক্তা ইরানের সাম্প্রতিক অশান্তি ও বিশ্ব আধিপত্যবাদীদের শত্রুতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমাদের মৌলিক ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে কিছু ব্যক্তি থাকবে যারা শত্রুর হয়ে কাজ করতে প্রস্তুত, এটাই আসল সমস্যা নয়। কারণ যেকোনো সমাজ ও সরকার ব্যবস্থাতেই এমন লোক থাকে।
তিনি বলেন, প্রকৃত সমস্যা হলো, এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার সাহস পাচ্ছে। আমাদের বিরোধীরা বুদ্ধিহীন, তারা ভাবে কয়েকজন দাঙ্গাবাজ দিয়ে ইরানের মতো মহান জাতিকে পরাভূত করা যাবে। কিন্তু আমাদের বড় ব্যর্থতা হলো, আমরা তাদের আরও কঠোরভাবে দমন করতে পারতাম বা পারি, কিন্তু তা করিনি।
শত্রু যেন আমাদের ক্ষতি করার চিন্তাও না করতে পারে
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন পানাহিয়ান বলেন, শত্রু যেন আমাদের ক্ষতিসাধনের দুঃসাহসও দেখাতে না পারে। তিনি বলেন, সমস্যা বিশ্ব আধিপত্যবাদের অস্তিত্বে নয়, বরং আমাদের এমন শক্ত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে কখনো এমন কাজে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়।
তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক অঙ্গনে ইউরোপীয় ও মার্কিন সরকারগুলোর মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপীয় সরকারগুলো আক্ষেপ করবে যে, 'হায়, আমরা যদি ইরানের মতো শক্তিশালী হতাম এবং আমেরিকাকে মোকাবিলা করতে পারতাম!'
পবিত্র মাজারের বক্তা আরও বলেন, আমাদের দেশে উদ্ভূত সমস্যার একটি অংশ দাঙ্গাবাজদের কারণে সৃষ্ট। এ ধরনের ঘটনা আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর যুগ থেকেই আছে, যখন কাবিল তার ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল।
তিনি বলেন, কাবিলের অস্তিত্বই হাবিলের অনুসারীদের আদর্শকে ধ্বংস করতে পারেনি। আরেকটি ত্রুটি দেশের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির, যারা জনগণের জন্য যথেষ্ট কাজ করেননি।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন পানাহিয়ান দৃঢ়তার সাথে বলেন, বিপ্লবের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যেসব সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা জনসেবায় অবহেলা বা কমতি রেখেছেন, তারা নিশ্চিতভাবে এ অশান্তিতে ঝরেছে রক্তের জন্য দায়ী।
তিনি স্বীকার করেন যে, অবশ্য শুধুমাত্র এ ধরনের কর্মকর্তাদের নিয়োগই মূল সমস্যা নয়। ইসলামী বিপ্লব শুরু থেকেই সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে ফেরেশতা নিয়োগ করা সম্ভব ছিল না এবং মানুষ স্বভাবতই নিষ্পাপ নয়।
মাজারের বক্তা আরেকটি দিক তুলে ধরে বলেন, আরেক শ্রেণী হলো সাধারণ মানুষ যারা বিদেশি মিডিয়া ও ইন্টারনেটের মিথ্যা প্রচারণায় প্রভাবিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রতারিত হওয়াও মৌলিক ত্রুটি নয়। বরং মৌলিক ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে মসজিদ ও ধর্মপ্রাণ সক্রিয় কর্মীদের পর্যাপ্ত, যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা না পালন করা।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন পানাহিয়ান বলেন, বিশ্ব আধিপত্যবাদের অস্তিত্ব, তাদের শত্রুতা কিংবা দায়িত্বশীলদের কোনো ত্রুটি কখনোই ধর্মপ্রাণ ও সচেতন নাগরিকদের তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার অজুহাত হতে পারে না।
তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন '২২ দেই (১২ জানুয়ারী)' মাসের উল্লেখ করে বলেন, ইসলামের ইতিহাসে এতবড় ত্যাগী জনগোষ্ঠী আর নেই। তবে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, 'কেন আমাদের মসজিদগুলোর কর্মকাণ্ড ও জৌলুস হ্রাস পাবে, যার সুযোগ নিয়ে শত্রুরা এ ধরনের কাজ করতে সাহস পায়?'
আপনার কমেন্ট